নায়ক হওয়ার দরকার নেই, নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে পারা একজন সক্ষম মানুষ হওয়াই আসল সার্থকতা

General
নায়ক হওয়ার দরকার নেই, নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে পারা একজন সক্ষম মানুষ হওয়াই আসল সার্থকতা

সিনেমার পর্দায় যখন নায়ক বস্তি থেকে উঠে এসে কোটিপতি হয়, তখন আমরা হাততালি দেই।

সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন শুনি রিকশাওয়ালার ছেলে বিসিএস ক্যাডার হয়েছে, আমরা আবেগে গদগদ হয়ে শেয়ার দেই।

কেন জানেন? আমরা কি আসলেই ওই মানুষটার সাফল্যে খুশি হই? না। আমাদের অবচেতন মন আসলে আমাদের নিজের জন্য একটু “আরাম” খোঁজে।

—————–

এই ‘Zero to Hero’ গল্পগুলো আমাদের কেবল অনুপ্রেরণা দেয় না, বরং এগুলো আমাদের মিথ্যে আশা দেয়। স্বপ্ন দেখায়।

১. আপনি হয়তো এখন লাইফে স্ট্রাগল করছেন। পকেটে টাকা নেই, চাকরিতে প্রমোশন নেই।

যখন আপনি শোনেন যে অমুক বিলিয়নিয়ার একসময় রাস্তায় ঘুমাতো, তখন আপনি নিজের বর্তমান দুরবস্থাকে জাস্টিফাই করার সুযোগ পান।

আপনি ভাবেন, “ওহ! তারমানে আমার এই কষ্টটা আসলে বৃথা না। আমিও একদিন হিরো হবো।” এটা এক ধরণের পেইনকিলারের মতো কাজ করে।

নিজের বর্তমান ব্যর্থতা আর দুঃখকষ্ট ঢাকার জন্য আমরা অন্যের সফলতার গল্পকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করি।

—————–

২. পৃথিবীটা খুবই স্বার্থপর এবং নিষ্ঠুর। এখানে কঠোর পরিশ্রম করলেই যে সফল হবেন, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।

ভাগ্য পরিবর্তনে লাক, টাইমিং, নেটওয়ার্কিং, অনেকগুলো ফ্যাক্টরকে একসাথে কাজ করতে হয়।

কিন্তু “জিরো টু হিরো” গল্পগুলো আমাদের শেখায়, পরিশ্রম করলেই সাফল্য আসবে। চাকুরী পেতে মামা চাচা লাগবে না। ভোর হলেই হয়তো নতুন একটা গল্পের শুরু হবে।

এই সরল সমীকরণগুলো আমাদের ব্রেইন পছন্দ করে।

—————–

৩. আমরা লটারি বিজয়ীর গল্প শুনি। সিনেমায় দেখি মাঝির ছেলে হঠাৎ টাকা পেয়ে লঞ্চের কোম্পানি খুলে ফেলেছে।

আমরা ভাবি, মিরাকল হয়তো সবার জীবনেই ঘটে। তাই আমরাও মনে করি, এমন মিরাকেল আমাদের জীবনেও একদিন হবে।

কিন্তু এটা আমাদের সাথে হয় না।

আবার লটারি কেটে যে লাখ লাখ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়েছে, তাদের গল্প আমরা কখনোই শুনি না।

—————–

কঠিন বাস্তবতা হলো, দারিদ্র্য কোনো রোমান্টিক জিনিস না।

  • দারিদ্র্য বা অভাব মানুষের কনফিডেন্স নষ্ট করে দেয়
  • রিস্ক নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়
  • আইকিউ (IQ) পর্যন্ত কমিয়ে দেয়
  • এমনকি চরিত্র নষ্ট করে দেয়

“শূন্য থেকে শুরু করা” কোনো গ্ল্যামারাস বিষয় না, এটা একটা ট্রমাটিক অভিজ্ঞতা। তাই সিনেমার স্ক্রিপ্ট বা মোটিভেশনাল গল্পে নিজেকে খুঁজবেন না।

এই পৃথিবী আপনাকে কোনো ‘হ্যাপি এন্ডিং’-এর প্রতিশ্রুতি দেয় না।

আমাদের জীবনে কখনই “অবশেষে তারা সুখে শান্তিতে বাস করতে থাকলো”, এমনটি হবে না।

—————–

মিরাকলের অপেক্ষা না করে, নিজের বর্তমান রিসোর্স দিয়ে নিজের রাস্তাটা তৈরি করুন।

নায়ক হওয়ার দরকার নেই, নিজের জীবনের দায়িত্ব নিতে পারা একজন সক্ষম মানুষ হওয়াই আসল সার্থকতা।

আবেগ কমান। লজিক বাড়ান। শান্তি ওখানেই।

দিস্কাও!

Posts You Might Like

Markdown version