সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ারেন বাফেটের পাঁচটি বিনিয়োগ দর্শন

সব ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ারেন বাফেটের পাঁচটি বিনিয়োগ দর্শন

ওয়ারেন বাফেটকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ পদ্ধতি এবং মূল্য বিনিয়োগের (value investing) উপর ফোকাস করা তাকে বছরের পর বছর সাফল্য পেতে সাহায্য করেছে।

এখানে ওয়ারেন বাফেটের বিনিয়োগ দর্শনের পাঁচটি মৌলিক নীতি রয়েছে:

আপনি বোঝেন এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন

বাফেট এমন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন যা তার খুব ভালোভাবে বোঝেন। তিনি কোম্পানিগুলিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে গবেষণা করেন এবং তাদের প্রতিযোগিতামূলক প্রাধান্য, ব্যবস্থাপনা টীম এবং আর্থিক অবস্থান বুঝতে সময় নেন। এটি তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং বড় ধরণের ভুল এড়াতে সহায়তা করে।

নিরাপদ দামে কিনুন

বাফেট এমন মূল্যে স্টক কেনার পক্ষে সমর্থন করে যা তাদের অন্তর্নিহিত মূল্যের (Intrinsic value) উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ধরেন একটি কোম্পানিকে আয় (revenue) এবং সম্পত্তি (assets) মিলিয়ে শেয়ারের দাম হবার কথা ১০ টাকা, অথচ কোনো কারণে শেয়ার বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকায় – ওয়ারেন বাফেট এমন শেয়ার কিনতে পছন্দ করেন। বোকার মতো ১০ টাকার শেয়ার ১২ টাকায় কিনলে সেটা অনেক বড় ভুলে পরিণত হতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী মূল্যে ফোকাস

বাফেট একজন দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারী যিনি স্বল্পমেয়াদী বাজারের ওঠানামার পরিবর্তে ব্যবসার অন্তর্নিহিত মূল্যের উপর ফোকাস করেন। তিনি বাজারের কিংবা তার বিনিয়োগকৃত কোম্পানির শেয়ারের দামে অস্থিরতায় প্রভাবিত না হয়ে অনেক বছর ধরে শেয়ারটি ধরে রাখতে বিশ্বাস করেন।

দলবল অনুসরণ করবেন না

বাফেট বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে অন্য বিনিয়োগকারীদের টিপস, উপদেশ কিংবা সতর্কতা মানতে নারাজ। উনি নিজে কোম্পানি সম্মন্ধে গবেষণা করেন আর সুযোগমতো বিনিয়োগ করেন। মার্কেট আজকে একটা কোম্পানিকে হাইপ করে উঠায় তো কালকে আরেকটাকে নামাবে, এটাই নিয়ম। অন্যের কথা শুনে অবুঝের মতো বিনিয়োগ করেছেন তো ধরা খেয়েছেন।

ধৈর্য ধরুন

ভালোভাবে গবেষণা করে যদি শেয়ার কিনে থাকেন, তাহলে অপেক্ষা করুন। ধীরে ধীরে ভালো রিটার্ন পাবেন। বাফেট ১৯৮৮ সালে প্রথম কোকাকোলার শেয়ার কেনেন, সেই শেয়ার আজও আছে। কোকাকোলা তার মোট পোর্টফোলিওর ৭%, যার বাজার মূল্য ১৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি। তারচেয়ে বড় কথা উনি প্রতি তিন মাস পর পর কোকাকোলা থেকে কমপক্ষে ২ হাজার কোটি টাকা ডিভিডেন্ড পান!

প্রতিটি পয়েন্টই খুব গুরুত্বপূর্ণ, প্রতিটি নিয়ে খুব সহজেই একটা করে বই লেখা সম্ভব। আমার স্বল্পজ্ঞানে ভবিষ্যতে বিস্তারিত লেখার চেষ্টা করবো।

আমি আর আগেও বিনিয়োগ নিয়ে কয়েকটি পোস্ট করেছি, সময় করে দেখে নেবেন। আমি আশা করি আপনার ভালো লেগেছে । বিনিয়োগ নিয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি লাইক এবং শেয়ার করুন।

ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Fill out this field
Fill out this field
Please enter a valid email address.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Posts You Might Like