ব্ল্যাক ফ্রাইডে শপিং উম্মাদনা আর অর্থ ব্যবস্থাপনার ৫টি উপায়

By

|

ব্ল্যাক ফ্রাইডে শপিং উম্মাদনা আর অর্থ ব্যবস্থাপনার ৫টি উপায়

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে (Black Friday) উম্মাদের মতো কেনাকাটার প্রথা শুরু হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা এই উন্মাদনা দেখে ডিসকাউন্ট অফার ধরে রাখতে এরপর শুরু করে সাইবার মানডে (Cyber Monday)। আমাজন এটাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়। তারা দুই সপ্তাহের জন্য ব্ল্যাক ফ্রাইডে অফার শুরু করে। এক হিসেবে দেখা গেছে, এই বছরের ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে মার্কিন ক্রেতারা প্রায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলারের শপিং করেছে সূত্র!

এই প্রথাটি যুক্তরাজ্যে এসে বলতে গেলে এক ধরনের ফ্লপ খায় – ব্রিটিশরা ডিসকাউন্টে টিভি বা টেডি বিয়ার কিনতে মাঝরাতে লাইনে দাঁড়ায়নি। তবে তুলনায় কম হলেও, তারা ব্ল্যাক ফ্রাইডে এবং সাইবার সোমবার সময়ে অনেক কিছু কেনে।

আমার বাসার অদূরে স্ট্রাটফোর্ড ওয়েস্টফিল্ডস শপিং সেন্টারে এক বছরে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে কোনো ভিড় নাই।
আমার বাসার অদূরে স্ট্রাটফোর্ড ওয়েস্টফিল্ডস শপিং সেন্টারে এক বছরে ব্ল্যাক ফ্রাইডেতে কোনো ভিড় নাই।

এসব দেখে এখন আপনি ভাবতেই পারেন যে সবাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের লোকেরা শুধুই টাকা অপচয় করে!

দেখুন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা ইউরোপের বাকি দেশগুলো ভোক্তা-চালিত সমাজ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। তারা অর্থ ব্যয় করতে পছন্দ করে, এটাকে যতটা খারাপ মনে হয় ততটা কিন্তু খারাপ না। কারণ আপনি জিনিস কিনতে থাকেন বলেই কিন্তু দোকানে কেনাবেচা হয়, কলকারখানা চলে, অর্থনীতি চলে। সবাই যদি কেনাকাটা বন্ধ করে দেয়, অর্থনীতি চলবে কি করে, বলুন তো!

আমাকে ভুল বুঝবেন না, আমি এক জায়গায় পড়েছিলাম যে ইউরোপীয় অর্থনীতি মার্কিন অর্থনীতির চেয়ে খারাপ, কারণ ইউরোপীয়রা আমেরিকানদের চেয়ে কম খরচ করে। একইভাবে এশিয়ান অর্থনীতি ইউরোপীয়দের চেয়ে খারাপ, কারণ এশিয়ানরা ইউরোপের তুলনায় কম খরচ করে – এটি একটি endless circle এর মতো।

দুইদিন একজন পাঠক আমাকে অর্থ ব্যবস্থাপনা (Money Management) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না যে অর্থ ব্যবস্থাপনা একটি চেকলিস্ট যা আপনি জিনিস কেনার সময় অনুসরণ করতে পারেন।

কোনো নিয়ম আপনার জীবনে কাজে আসবে, আবার কোনো নিয়ম আপনি ফলো করতে পারবেন না। তাই এটাকে আপনার জীবনধারার সাথে মানানসই হতে হবে, আপনি গড়গড় করে “ক খ গ ঘ” পড়ে আপনার জীবনে অর্থ ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করতে পারবেন না।

কয়েক বছর ধরে অনুশীলন করার পরও আমার মনে হয় আমি আমার জীবনের অর্থ ব্যবস্থাপনাকে আরো উন্নত করতে পারবো। এইগুলো কিন্তু পাঠপুস্তকে জানতে পারবেন না, আপনাকেই নিজে থেকে শিখে নিতে হবে!

আমরা কেন টাকা জমাতে পারি না, এই বিষয়ে গত বছর এই সময়ে একটা ভিডিও করেছিলাম, দেখে নিতে পারেন:

এখানে ডিসকাউন্টে কেনাকাটা সম্পর্কে আমার কয়েকটি নিয়ম রয়েছে যা আপনিও অনুসরণ করে সফলতা পেতে পারেন:

  • খুবই জরুরি না হলে আপনি শুধুমাত্র সম্পূর্ণ মূল্যে কোনো কিছু কিনবেন না।
  • এরপর কমপক্ষে ৩০% থেকে ৫০% কিছু কেনার চেষ্টা শুরু করুন – ১০% বা তার কম ডিসকাউন্টে কেনার কোনো মানে নাই।
  • FOMO (Fear of missing out) তে পড়ে তাড়াহুড়া করে কিছু কেনার দরকার নাই। ডিসকাউন্ট মিস হলো তো হলো! পরের মাসে কিংবা পরের বছর নতুন মডেল বা আরও ভালো ডিজাইনের পণ্য বেশি ডিসকাউন্টে বাজারে আসবে, তখন কিনবেন, সমস্যা কোথায়?
  • ভারী ডিসকাউন্ট, ধরুন ৯০% ডিসকাউন্ট, দিচ্ছে বলেই কিছু কিনতে হবে তার কোনো মানে নাই। যখন কোনো একটি আইটেম আপনার দরকার এবং ওই জিনিসটা ডিসকাউন্টে বিক্রি হচ্ছে, তখনি কিনবেন। অনেককে দেখা যায় কেনার পড়ে চিন্তা করে বলে তার অমুক কাজে তমুক আইটেমটা কাজে লাগবে বলে মনে হয়!
  • এটি স্টেপটা সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন। যদি আপনার জুতা বা শার্ট পুরানো হয়ে যায় এবং আপনি সেগুলোর পরিবর্তে নতুন কিছু কিনছেন, তাহলে আপনাকে সেই পুরোনো আইটেমগুলো দান করতে অথবা ফেলে দিতে হবে৷ নতুবা আপনি পুরোনো জিনিসগুলো ব্যবহার করতে থাকবেন এবং নতুন আইটেমগুলো ড্রয়ারের কোনায় জমতে থাকবে। এক সময় হয়তো আপনি ওগুলোর কথা ভুলেই যাবেন এবং আবার নতুন আইটেম কিনবেন!

আমরা প্রায় সবাইই অন্যকে দোষারোপ করতে ভালোবাসি। কেউ কেউ বলে দোকানে ডিসকাউন্ট দেয় বলে আমরা টাকার অপচয় করি কিংবা ক্রেডিট কার্ডওয়ালারা খারাপ, ওরা আমাদের লোন করতে শিখায়।

দেখুন এগুলি ব্যবসায়িক সংস্থা, তারা আমাদের মতো customerদের থেকে পয়সা বের করবে এটাই ওদের ব্যবসা। কেউতো আপনার পকেটে জোর করে হাত ঢুকিয়ে টাকা বের করছে না। আমাদের নিজেদের অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আমাদের নিজেদেরই নিতে হবে।

এই পোস্টটি প্রথম আমার ফেইসবুক পেজে প্রকাশিত হয়। আমি আশা করি আপনার ভালো লেগেছে । অর্থ ব্যবস্থাপনা সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পোস্টটি লাইক এবং শেয়ার করুন।

ধন্যবাদ।

Posts You Might Like